চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন করোনা, সাড়ে তিন মাসে সর্বোচ্চ শনাক্ত ২০৭

0
75

চট্টগ্রামে কিছুতেই ছন্দে ফিরছে না করোনাভাইরাসের সংক্রমণের সংখ্যা ও হার। নতুন বছরেই যেন বিষফোড়া হয়ে দাঁড়াচ্ছে নিয়ন্ত্রণহীন করোনার এ সংক্রমণ। বছরের শুরু থেকেই প্রতিদিন শনাক্তের হার ও সংখ্যা দুটোই ঊর্ধ্বমুখীতে অবস্থান করছে। যাতে বেশ চিন্তাও বাড়াচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের।

সর্বশেষ গেল একদিনে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে শনাক্ত রোগী পাওয়া গেছে ২০৭ জন। যা গেল সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল। শুধু তাই নয়, এ দিনে করোনার সংক্রমণ হারও প্রায় ৯ শতাংশের দ্বারে এসে ঠাই নিয়েছে। অথচ গেল তিন মাসে আগেও এ হার ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করেছিল। সর্বশেষ তিন মাসের বেশ কিছুদিন শূণ্যের কোঠায়ও দাঁড়িয়েছিল। হঠাৎ করোনার এমন প্রকোপ বৃদ্ধিতে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা।

আগেরদিন চট্টগ্রামে নগর-উপজেলা মিলে একশ পার হয়েছিল করোনা শনাক্তের সংখ্যা। একদিনের ব্যবধানে শনাক্ত ছাড়াল দুইশর ঘর। একই সাথে মৃত্যু হয়েছে একজনের। ৯ দশমিক ০১ শতাংশ হারে চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২০৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে ১৮৭ জন নগরের এবং ২০ জন বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। চট্টগ্রামে মোট শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়ালো এক লাখ ৩ হাজার ৪১০ জনে। জেলায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৩৩৫ জনের। এর মধ্যে ৭২৫ জন নগরের, বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যু হয়েছে ৬১০ জনের।

মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গেল ২৪ ঘণ্টায় ১২টি ল্যাবে সর্বমোট ২ হাজার ২৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাতে এই ২০৭ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়।

এদিন চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা ছিল রোগী শূণ্য। বাকি সাত উপজেলার মধ্যে রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় ১ জন, হাটহাজারী উপজেলায় ৫ জন, আনোয়ারায় ২ জন,বোয়াখালীতে ২ জন, সাতকানিয়ায় ৩ জন, রাউজানে ৫ জন ও ফটিকছড়ি উপজেলার ২ জন বাসিন্দার শরীরে করোনা শনাক্ত হয়।

এর আগে নতুন বছরের প্রথম দিন গত শনিবার (১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন ৯ জন। এরপর রোববার ১৬ জন, সোমবার ২৩ জন, মঙ্গলবার ৩৫, বুধবার ৫৩, বৃহস্পতিবার ৫৩ ও শুক্রবার ৮২, শনিবার ৭৬, রোববার ১০৪ ও সোমবার নগরীতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হন ১১৯ জন।

২০২০ সালের ৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ৯ এপ্রিল ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে প্রথম কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হয়।