বাঙালির বিজয়ের ৫০ বছরপূর্তিতে যা বললেন ভারতের রাষ্ট্রপতি

0
93

মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানের সঙ্গী হয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ঢাকায় তিনদিনের সফরে আসা ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ‘মহাবিজয়ের মহানায়ক’ প্রতিপাদ্যে দুই দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশংসা করেন।

বাঙালির মহাবিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় সঙ্গী হয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বন্ধুদেশ ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ‘বিদ্রোহী’ এর সঙ্গে তুলনা করেন রামনাথ।

বক্তব্যের শুরুতেই ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলায় বাংলাদেশের মানুষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, ‘আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাই।’

সামরিক সরকারের যাঁতাকল আর বার বার হত্যাচেষ্টার পরও দৃঢ়তার সঙ্গে দেশকে এগিয়ে নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন রামনাথ।তিনি বলেন, ‘কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত কবিতা ‘বিদ্রোহী’ এর মতো বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের পথে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতার কয়েক চরণ আবৃত্তি করেন।

‘মহা-বিদ্রোহী রণক্লান্ত

আমি সেই দিন হব শান্ত,

যবে উৎপীড়িতের ক্রন্দন-রোল, আকাশে-বাতাসে ধ্বনিবে না

অত্যাচারীর খড়্‌গ কৃপাণ ভীম রণ-ভূমে রণিবে না-বিদ্রোহী রণ-ক্লান্ত

আমি সেই দিন হব শান্ত!’

গত এক দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রশংসা করেন ঢাকায় সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। তিনি বলেন, ‘আমরা গত এক দশকে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছি, যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সুযোগও তৈরি করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

বাঙালির মহাবিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তীতে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় সঙ্গী হয়েছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা বন্ধুদেশ ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বকে ভারত সবসময় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে উল্লেখ করে রামনাথ বলেন, ‘বন্ধুত্বের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করার জন্য আমরা যথাসাধ্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

ভারতের রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমরা ধারাবাহিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, ছাত্র বিনিময় এবং সহযোগিতার একাধিক ক্ষেত্রে ব্যাপক কর্মকাণ্ড দেখেছি। এর সবই আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সার্বভৌম, সমতা এবং আমাদের নিজ নিজ দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে একটি টেকসই ও গভীর বন্ধুত্বের নিশ্চয়তা। আমাদের প্রচেষ্টাগুলো এই দৃষ্টিভঙ্গিতে অনুপ্রাণিত হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভৌগোলিক সুবিধা ও আপনাদের দেশের চমৎকার অর্থনৈতিক সাফল্য সমগ্র উপ-অঞ্চল এবং বিশ্বকে উপকৃত করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি ক্রমবর্ধমান ধারণা রয়েছে যে ঘনিষ্ঠ উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সংযোগ স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সোনার বাংলা গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে।’

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা ও ইংরেজিতে প্রকাশিত দুটি স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

আলোচনা শেষে ভারতের রাষ্ট্রপতির হাতে ‘মুজিব চিরন্তন’ শ্রদ্ধা স্মারক তুলে দেন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানা।