সাময়িক বহিষ্কার হচ্ছেন খরণদ্বীপের চেয়ারম্যান মোকারম!

0
19

নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে ইয়াছমিন আক্তার এ্যানী (২৪) নামে মুসলিম গৃহবধুকে হত্যা ও সনাতন নিয়মে পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় শ্রীপুর খরণদ্বীপের ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকারমকে আসামি করা হয়েছে।

এ হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালত গ্রহণ করলে আইন অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত হতে পারেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোকারম। এছাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি রতন চৌধুরীসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক বদিউল আলম জানান, এ ঘটনা নিয়ে অবশ্যই তদন্ত হবে। যেহেতু মামলায় চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনে কী বলা আছে? নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত থেকে দণ্ডিত হলে, অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে জনপ্রতিনিধিরা তার নিজ পদ থেকে অপসারণযোগ্য হবেন। ব্যাখ্যায় বলা হয়, ‘অসদাচরণ’ বলতে ক্ষমতার অপব্যবহার, এই আইন অনুযায়ী বিধি-নিষেধ পরিপন্থী কার্যকলাপ, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য তথ্য দেওয়াকে বুঝাবে।

বোয়ালখাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন নাহার বলেন, স্বাভাবিকভাবে ভালো কাজে স্থানীয় সরকার বিভাগ জনপ্রতিনিধিদের যেমন প্রশংসিত করে। তেমনি মন্দ কাজের জন্যও শাস্তির বিধান আইনে আছে। বিভিন্ন সময় অনেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। যদি কোন জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগপত্র আদালত কতৃক গ্রহণ করা কিংবা চার্জশিট হয়, তাহলে সাসপেন্ড (সাময়িক বরখাস্ত) করার বিধান রয়েছে।’

গত ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই (নং-১২৯/২০২১) ওই মামলাটি দায়ের করেন নিহতের মা রোকসানা বেগম।

আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতকে অবহিত করার জন্য বোয়ালখালী থানার ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

অভিযুক্তরা হলেন-চট্টগ্রাম বোয়ালখালী উপজেলার ৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের রতন চৌধুরী (বয়স উল্লেখ নেই), সাধন মহাজন (৬০), নিমাই দে (৪৫), শংকর দত্ত (৩৩), অরবিন্দ মহাজন (৫০), অরুন দাশ (৫০), দিলীপ দেব (৪৫), প্রদীপ সুত্রধর (৪০), রাম প্রসাদ (৩৮), রনি দে (৩০), অরুপ মহাজন (৪২), সমর দাশ (৫৫), রবীন্দ্র ধর (৬০), নিপুন সেন (৬০), মো. মোকারম চেয়ারম্যান, ইউসুফ প্রকাশ ড্রেজার ইউসুফ (৩৫) ও পবন দাশ (৫৫)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ইয়াছমিন আক্তার এ্যানির সাথে যুবক বাবলু দে’র পরিচয়। পরে প্রনয় এবং তা বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। বাবলু এবং এ্যানির সংসারে ইশা মনি নামক দেড় বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। বাবলু হিন্দু ধর্মাবলম্বী হয়েও মিথ্যা পরিচয় দিয়ে এ্যানিকে বিয়ে করেন।

পরে এ্যানি জানতে পারায় এ বিষয়ে তাকে ধর্মান্তরিত হওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। চাপ থেকে মুক্ত হতেই সুকৌশলে তাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে হিন্দু রীতিতে পুড়িয়ে দেওয়া হয় লাশ। যাতে কোন রকম প্রমাণ পাওয়া না যায়। পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকান্ড কে হার্ট এ্যাটাকে মৃত্যু প্রচার করে হিন্দু হিসেবে দাহ করে জ্বালিয়ে দেন।

ঘটনার দিন (৩ আগস্ট) বাগেরহাট থেকে না আসা পর্যন্ত লাশ দাফন না করার অনুরোধ জানালেও তারা তার মেয়েকে পুড়িয়ে ফেলে বলে অভিযোগ মায়ের। এজাহারে আরও বলা হয়, হত্যার আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যেই তাকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কোন মৃত্যু সনদ কিংবা পুলিশের অনুমতি ছাড়াই কেবল চেয়ারম্যান, মেম্বার, চৌকিদারের দোহাই দিয়ে তার মেয়েকে পুড়িয়ে ফেলার মধ্য দিয়ে তারা বিষয়টি অতিদ্রুত ধামাচাপা দিতে চেয়েছে।

এ বিষয়ে বাদির আইনজীবি এএম জিয়া হাবিব আহসান জানান, ‘হত্যার অভিযোগ এনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করা হয়। বোয়ালখালী থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছেন।’